বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী-স্পিকার

বিডি মেইল ডেস্ক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ ছাড়া বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট দিয়েছেন।

পরে ভোট দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রাষ্ট্রপতি পদে অপর প্রার্থী হলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দুপুর দুইটা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়ম সংসদ সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নিয়ম জানান। নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন সিইসি।

এ সময় জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সিইসি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থী এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ঘোষণা করেন। পরে সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট পেপার গ্রহণ ও তা ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। পরে ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।

সিইসি জানান, ভোট গ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টায়। এরপর ব্যালট গণনা শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংসদ সদস্য হওয়ায় এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে গত তিন দশক ধরে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এককভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি ভেঙে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে এই পুরো নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

আরো