২০২৬ সালে ৫১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দেবে সরকার
দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কলেরা প্রতিরোধে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন (pOCV) ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রথম ধাপে ৫১ লাখের বেশি মানুষ
ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্যায়ে ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই রাউন্ডে এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (OCV)।
অগ্রাধিকার এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল, নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর রয়েছে।
দুই রাউন্ডে টিকাদান
২০ আগস্ট উদ্বোধনের পর প্রথম রাউন্ড ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় রাউন্ড ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। দুই ডোজের মধ্যে ন্যূনতম ১৪ দিনের ব্যবধান থাকবে। নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী ১ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিয়ে দুই রাউন্ডেই অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
VaxEPI-তে থাকবে টিকার তথ্য
ক্যাম্পেইনে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও ব্যবহার করা হবে। VaxEPI প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকাগ্রহীতারা e-Health Card পাবেন। এতে টিকাদানের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ পর্যবেক্ষণ ও কর্মসূচির মূল্যায়ন সহজ হবে।
মন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, নিরাপদ খাদ্য এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
১৪৪ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সরকারের Multi-Year Plan of Action-এর আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের ১৪৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রতিরোধমূলক কলেরা টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রোগের প্রাদুর্ভাবের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে সরকার।
ক্যাম্পেইন সফল করতে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং কমিউনিটি নেতাদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির কারণে নিয়মিত EPI কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
