৪ বছর পর উন্মুক্ত হলো তুরস্কের ঐতিহাসিক সেলিমিয়ে মসজিদ
ঐতিহাসিক অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম সেরা স্থাপত্য নিদর্শন তুরস্কের এদিরনে শহরের সেলিমিয়ে মসজিদ দীর্ঘ চার বছর পর অবশেষে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা আবার তার পুরোনো গৌরব ও মহিমায় ফিরে এসেছে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় থাকা এই মসজিদ ১৫৬৮ থেকে ১৫৭৫ সালের মধ্যে নির্মাণ করেন অটোমান সাম্রাজ্যের কিংবদন্তি স্থপতি মিমার সিনান। মসজিদটির প্রাচীন ঐতিহ্য ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে ২০২১ সালের শেষের দিকে সংরক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ফাউন্ডেশনস এবং একঝাঁক বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে গত চার বছর ধরে মসজিদটির মূল গম্বুজ, মিনার, পাথরের কারুকাজ, ক্যালিগ্রাফি এবং ভেতরের সজ্জাসহ পুরো চত্বরের সংস্কার করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে বলকান যুদ্ধের সময় বুলগেরীয় বাহিনীর ছোঁড়া কামানের গোলার একটি দাগ মসজিদে যেমন ছিল, তেমনই রাখা হয়েছে। এই দাগটি মূলত আমাদের পূর্বপুরুষদের লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন তুর্কি লিরা বা ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া এই প্রকল্প নিয়ে এরদোয়ান আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ঐতিহাসিক মাস্টারপিসটি আগামী আরও ১১০০ বছর সগৌরবে টিকে থাকবে।
একই অনুষ্ঠানে এরদোয়ান আরও একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৮৭৭-১৮৭৮ সালের রুশ-তুর্কি যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা ঐতিহাসিক এদিরনে প্রাসাদ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৭ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হবে এবং প্রাসাদসহ এর বাগান সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে এদিরনে শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং পর্যটন আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, স্থপতি মিমার সিনান নিজেই এই সেলিমিয়ে মসজিদকে তার জীবনের সেরা শিল্পকর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। অটোমান প্রকৌশল এবং নান্দনিকতার এক অনন্য নিদর্শন এই মসজিদ। সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের নির্দেশে কেবল ইবাদতগাহ হিসেবেই নয়, বরং শিক্ষা, বাণিজ্য ও সামাজিক জীবনের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই পুরো কমপ্লেক্সটি গড়ে তোলা হয়েছিল। চার বছর পর এই সংস্কারের মাধ্যমে মসজিদটি তার পূর্ণ সৌন্দর্য ফিরে পাওয়ায় এখন তা একই সাথে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।