Wednesday, 24 June, 2026, 12:30 am

আইডিএলসি ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯.৫৭ শতাংশ

বি‌শেষ প্র‌তি‌নি‌ধি

দেশের শীর্ষস্থানীয় নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ কোটি ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩০৭ টাকা বেশি। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধি প্রায় ৯.৫৭ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর আইডিএলসি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫২২ কোটি ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৬ টাকা**। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ২০২৪ সালের শেষে ৫৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ, দেশের অন্যতম বড় ও সুপরিচিত এই নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণমান এবং আদায় সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপের ইঙ্গিতই নয়, বরং সামগ্রিক আর্থিক খাতের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিরও প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া মানে তাদের তারল্য ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণে ঝুঁকি মূল্যায়ন, গ্রাহক নির্বাচন এবং আদায় কাঠামো—সবকিছুর ওপরই চাপ তৈরি হওয়া। দীর্ঘমেয়াদে এটি আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইডিএলসি ফাইন্যান্স দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট সুশাসন, সুসংগঠিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য পরিচিত। সে বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের এমন বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই বাজারে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন দেশের আর্থিক খাত খেলাপি ঋণের চাপ, উচ্চ সুদহার, ব্যবসায়িক মন্দা এবং গ্রাহকদের পরিশোধ সক্ষমতা হ্রাসের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের এই প্রবণতা এখন আর কেবল একটি আর্থিক সূচকের বিষয় নয়; বরং এটি প্রতিষ্ঠানটির ঋণপোর্টফোলিওর গুণগত মান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী প্রান্তিকগুলোতে এই ঋণ পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটি কী পদক্ষেপ নেয় এবং খেলাপি ঋণের প্রবণতা কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে—সেদিকেই এখন নজর থাকবে বিনিয়োগকারী, আমানতকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের।

আরো