রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৮

জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে গত সপ্তাহের ভয়াবহ ফেরিডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) হ্রদ থেকে আরও ২২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ বাকিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জাম্বিয়া সীমান্তবর্তী বিশাল এই হ্রদে মঙ্গলবার উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি সরকারি যাত্রীবাহী ফেরি উল্টে যায়। এটিকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের বিবৃতিতে নতুন করে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর মোট নিহতের সংখ্যা ৬৮ নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ নিহতদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও জানা গেছে, নৌযানটির অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন হ্রদের আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌকাটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৯০ জন। কিন্তু ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ৫ জন নাবিক এবং বিপুলসংখ্যক শিশু গাদাগাদি করে অবস্থান করছিল। বেসামরিক সুরক্ষা ইউনিট জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার হ্রদ-তীরবর্তী শহর কারিবার জেলা হাসপাতালে শত শত মানুষ তাদের নিখোঁজ আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের মরদেহ শনাক্ত করতে ভিড় জমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনহারা মানুষদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বোট রেজিমেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি জানান, শীতের তীব্র ঠান্ডার কারণে মরদেহগুলো পানির নিচে আটকে ছিল এবং ভেসে উঠতে কিছুটা সময় নিচ্ছে। তবে হ্রদে থাকা সব মৃতদেহ উদ্ধার করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের কারিবা শহরে নিহতদের স্মরণে এক আবেগঘন গণস্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌযানে পানি ঢুবতে শুরু করলে তারা চালককে তীর ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও লাইফ জ্যাকেটের সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে অধিকাংশ যাত্রীই তলিয়ে যান।

উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত এই কারিবা হ্রদটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বা মনুষ্যসৃষ্ট হ্রদ।

আরো