Sunday, 5 July, 2026, 12:13 am

১৬-১৮ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘বি বিউটি টেক এক্সপো-২০২৬’

দেশের সৌন্দর্যসেবা, প্রসাধনী, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, সুস্থতা এবং সৌন্দর্য প্রযুক্তি খাতকে আন্তর্জাতিক উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ১৬ থেকে ১৮ জুলাই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ‘বি বিউটি টেক এক্সপো-২০২৬’।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেড এ তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক নাসিমুর রহমান। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আরিফ ও হারমনি স্পার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা রিতাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানান, বর্তমানে দেশের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা খাতের বাজারের আনুমানিক আকার ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে এ খাতে বার্ষিক ৬ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সৌন্দর্যসেবা কেন্দ্র, স্পা, সুস্থতা কেন্দ্র, প্রসাধনী বিপণন, পরিবেশক নেটওয়ার্ক, অনলাইন বাণিজ্য, উৎপাদন, মোড়কজাতকরণ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, চর্মরোগ চিকিৎসা ও নান্দনিক সেবাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে এ খাতে আরও পাঁচ থেকে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশের সৌন্দর্যশিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও আমদানিনির্ভর। উন্নতমানের প্রসাধনী, ত্বক পরিচর্যার সামগ্রী, সুগন্ধি, বিশেষায়িত কাঁচামাল, সৌন্দর্যসেবার যন্ত্রপাতি, মোড়কজাতকরণ উপকরণ এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হওয়ায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, প্রদর্শনীটি কেবল পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

এবারের আয়োজনে ৬০টির বেশি প্রদর্শক, ১২০টির বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং আটটির বেশি দেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় আট হাজার শিল্প-সংশ্লিষ্ট দর্শনার্থী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড এ প্রদর্শনীতে অংশ নেবে বলে জানান তারা।

আরো