খুলনার উপকূলে ১২,৫০০ মানুষের পানির ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশ এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। সম্প্রতি সৌরবিদ্যুৎচালিত ১৬টি গভীর নলকূপভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগে ইবিএল ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন পার্টনার’ হিসেবে সহযোগিতা প্রদান করেছে।
লবণাক্ততায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় এসব সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে। সর্বাধিকসংখ্যক পরিবারকে নিরাপদ পানির আওতায় আনতে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে কৌশলগতভাবে। দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে থাকা এসব এলাকার প্রায় ১২,৫০০ মানুষ সরাসরি এবং ২০,০০০-এর বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে এ উদ্যোগের সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বটিয়াঘাটায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, এমপি; এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ডা. মো. এনামুল হক এবং ইবিএলের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, এফসিএস। এ ছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং এলাকার বাসিন্দারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও খুলনার উপকূলীয় বহু পরিবার নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা ও ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্বল্পতায় স্থানীয়দের দূরে হেঁটে কিংবা অনিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এই পানি সংগ্রহের মূল সামাজিক চাপটি এসে পড়ে নারী ও শিশুদের ওপর, যা তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক বিকাশকে চরমভাবে ব্যাহত করে।
প্রতিটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় রয়েছে সৌরবিদ্যুৎচালিত পরিচালনব্যবস্থা, গভীর নলকূপ, সাবমার্সিবল পাম্প এবং উঁচুতে স্থাপিত পানির ট্যাংক। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ উদ্যোগ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাবে, দৈনিক পানি সংগ্রহের ভোগান্তি দূর করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে পানির টেকসই উৎস তৈরি হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। ফলে পরিবারগুলো শিক্ষা, জীবিকা এবং পরিবারের সদস্যদের যত্নে আরও বেশি সময় দিতে পারবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমির এজাজ খান, এমপি বলেন, “উপকূলের জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের একটি বিষয়। এ উদ্যোগ হাজারো পরিবারের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনবে। এমন একটি টেকসই ও প্রভাববিস্তারকারী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমি এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশ ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিকে সাধুবাদ জানাই।”
এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ডা. মো. এনামুল হক বলেন, “নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা ছাড়া শিশুদের সুস্থ বিকাশ সম্ভব নয়। এই উদ্যোগ শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নারীদের ওপর অর্পিত দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাবে এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর সক্ষমতা বাড়াবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে ইবিএলের এই সহযোগিতার জন্য আমরা তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব হাসান ও. রশীদ বলেন, “জীবনের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে ওঠে। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে ইবিএল নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বাংলাদেশের হাজারো মানুষের সহনশীলতা জোরদার করার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়নের প্রতি তার অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিচ্ছে।”
জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি ও টেকসই জনগোষ্ঠী গঠনে এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশ এবং ইবিএলের যৌথ প্রতিশ্রুতির অনন্য দৃষ্টান্ত এই উদ্যোগ। নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার এ যৌথ প্রচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর টেকসই সমাধান হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।