বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

কেন খাবেন করমচা?

বিডি মেইল ডেস্ক:-

টক স্বাদের ছোট্ট ফল করমচা। মৌসুমি এই ফলটি সারা বছর বাজারে না মিললেও বর্ষার শেষ দিকে কিংবা শরতের শুরুতে অনেক জায়গায় দেখা যায়। কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে লালচে বা গোলাপি রঙের করমচা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি রান্নাঘরেও এর ব্যবহার রয়েছে। চাটনি, আচার কিংবা বিভিন্ন তরকারিতে এই ফল ব্যবহার করা হয়।

করমচায় ভিটামিন সি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে। এতে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও কপার পাওয়া যায়। ফলে পরিমিত পরিমাণে এই ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধে সহায়ক:

ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। করমচায় থাকা ভিটামিন সি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই পুষ্টির চাহিদা পূরণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু একটি ফল খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

হজমের জন্য উপকারী:

করমচায় খাদ্য আঁশ রয়েছে। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তাই পরিমিত করমচা খাওয়া দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আঁশের পরিমাণ বাড়ানোর একটি উপায় হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে:

করমচায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে করমচাকে বিবেচনা করা উচিত নয়।

কীভাবে খাবেন?

করমচা স্বাভাবিকভাবেই বেশ টক। তাই অনেকে লবণ-মরিচ দিয়ে কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি এটি দিয়ে চাটনি বা আচার তৈরি করেন। ডাল, মাছ বা সবজির রান্নাতেও টক স্বাদের জন্য করমচা ব্যবহার করা যায়। তবে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি দিয়ে তৈরি আচার-চাটনি নিয়মিত বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়।

সুষম খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত করমচা খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরো