ডোমারে পানির চাপে স্লুইসগেট ভেঙে ঝুঁকিতে কৃষিজমি, শতাধিক পরিবার
রতন কুমার রায়, ডোমার (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির চাপে ভেঙে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারের মানুষ।
রোববার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে স্লুইসগেটসংলগ্ন মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রোববার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পানির চাপ বেড়ে যায়। পরে স্লুইসগেটের পাশের বাঁধে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হলে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের বসতবাড়ির একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকেই স্লুইসগেটটি নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। পরে বাঁধের পাশ দিয়ে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের বাড়িটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে যায়।
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক—দুই মৌসুমেই কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। দ্রুত নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষক আহিনুর ইসলাম বলেন, স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। গেটটি না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এতে জমি অনাবাদি হয়ে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক হালিমা বেগম বলেন, ‘এখানে গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল। এতে পানি আটকে যায়। আমি গেট খোলার জন্য চিৎকার করছিলাম। কেউ শুনল না। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। এখন কীভাবে বাড়ি ঠিক করব?’
খবর পেয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।
