বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ

বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাব মানলে ২২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর যে প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দিয়েছে, তা অনুমোদন করা হলে সরকার ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনটিটিপি জানায়, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নিম্ন স্তরের সিগারেটে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সরকারের রাজস্ব কমবে প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরে কমবে ১৩ টাকা ২৮ পয়সা। বর্তমান বিক্রির পরিমাণ বিবেচনায় এতে নিম্ন স্তরে প্রায় ১ হাজার ৯৭২ কোটি এবং মধ্যম স্তরে ২৩৯ কোটি টাকা—মোট ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব কমতে পারে।
বিএনটিটিপি বলেছে, ৭ জুন ২০২৬ জারি করা এসআরওতে বাজারে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের এমআরপি কমানোর সুযোগ না রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। একটি কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থে এ নীতি শিথিল করা হলে তা তামাক করনীতিতে বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।

সংগঠনটির দাবি, দাম কমালে বিক্রি বাড়বে এবং রাজস্বও বাড়বে—বিএটিবির এমন পূর্বাভাসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং কম দামি ব্র্যান্ডের দিকে ভোক্তাদের স্থানান্তর হলে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আরও কমতে পারে।

বিএনটিটিপি আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে তারা নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে সর্বনিম্ন সিগারেটের দাম ১০০ টাকা এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। সংগঠনটির মতে, মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে সিগারেটের দাম কমানোর পরিবর্তে কর ও মূল্য আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

বিএটিবির প্রস্তাবকে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব—উভয়ের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে বিএনটিটিপি এটি অনুমোদন না করার আহ্বান জানিয়েছে।

আরো