বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান করল ভারত

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কার্যকর হওয়া বহুল আলোচিত ‘সীমান্ত যৌথ কমিশন’ সরাসরি প্রত্যাখ্যান ও বাতিল ঘোষণা করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো স্বীকৃত ভৌগোলিক সীমানা নেই এবং গঠিত কমিশনটির আইনি কোনো ভিত্তি নেই। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতিতে জানান, সম্পূর্ণ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের ভূখণ্ড জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে দখলে রেখে পাকিস্তান কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে জড়িত হতে পারে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। ১৯৬৩ সালের ২ মার্চ স্বাক্ষরিত কথিত চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি ভারত কখনও মেনে নেয়নি। এটিকে শুরু থেকেই অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে। অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়া বা ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার যেকোনো চেষ্টা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত ও প্রত্যাখ্যান করছি।

ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে এ ধরনের ‘নাটকীয়তা’ বন্ধ করে অবিলম্বে তাদের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই যৌথ কমিশনের প্রথম উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (চীন) বিলাল মাহমুদ চৌধুরী যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈঠককে দুই দেশের জন্য বড় ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, এর মাধ্যমে যৌথ সীমান্ত জরিপ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম হবে। পাকিস্তান সরকারের সেই সামাজিক মাধ্যম বার্তার পরই দিল্লির পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হলো।

আরো