বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

কারখানায় নকল ব্যান্ডরোলের সিগারেট, ভ্যাট গোয়েন্দাদের অভিযান

সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অনিয়মের অভিযোগে গাজীপুরে অবস্থিত ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটনের দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্য সংযোজন করের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল পুনর্ব্যবহার, নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট উৎপাদন এবং ভ্যাট চালান ছাড়াই পণ্য বাজারজাতকরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনবিআরের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গাজীপুরের কাওলতিয়া এলাকায় অবস্থিত ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানা ও তৎসংলগ্ন একটি গুদামে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দুটি দল।

অভিযানকালে কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ রাখা হয় এবং বারবার গেট খোলার অনুরোধ জানানো হলেও কেউ সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছে এনবিআর। পরে গোয়েন্দা দলের সদস্যরা দেয়াল টপকে কারখানা চত্বরে প্রবেশ করেন। এ সময় কারখানায় সিগারেট উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর অভিযোগ

এনবিআরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে গোয়েন্দা দল সেখানে তল্লাশি চালায়। এ সময় ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানো হচ্ছিল বলে তারা দেখতে পান।

পোড়ানো সিগারেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করতে বলা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তা দেখানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, এ ধরনের পণ্য ধ্বংসের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার লিখিত বিবৃতিতে আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে এনবিআর। পরে পোড়ানো ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে গোয়েন্দা দল।

জব্দ করা হয়েছে ব্যান্ডরোল, কাঁচামাল ও মোবাইল ফোন

অভিযানের পর কারখানা, তৎসংলগ্ন গুদাম এবং আবাসিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

এ সময় কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে এনবিআর। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

ভ্যাট চালান ছাড়াই সিগারেট বাজারজাতের অভিযোগ

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে দাবি করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

এনবিআরের আইটি ও সাইবার ফরেনসিক টিম জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয় সংক্রান্ত গোপন বার্তা এবং হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে। ওই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের দাবি, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ধরনের ভ্যাট চালান (মূসক-৬.৩) ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এসব লেনদেন মূল হিসাব বইয়ে গোপন রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের প্রাপ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

মামলা দায়ের

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মামলার নম্বর ১৭/২০২৬। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে।

রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা-এর অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো