রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

জাতীয় যুব দিবস আজ

দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণ সমাজের অদম্য মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আজ ১ নভেম্বর পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় যুব দিবস’। ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার সারা দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী তথা যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ জোগানো এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতিবছর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই দিবসটি পালন করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের মোট জনসংখ্যার বড় একটা অংশজুড়ে আছে তরুণ সমাজ। দেশের অর্থনীতি আর সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে এই তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ দেশের তরুণেরা জাতীয় অর্থনীতিতে অভাবনীয় অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। এ কারণেই আজকের এই দিনে যুবসমাজকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্‌যাপন করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিক্ষণীয় আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে খাল খনন, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, মননশীল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুবঋণ বিতরণ। এছাড়া স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সফল হওয়া তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশেষ সম্মাননা এবং বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন রাখা হয়েছে।

তবে দিনশেষে দেশের যুবসমাজকে ঘিরে কিছু বাস্তবভিত্তিক চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমান সময়ে বেকারত্ব, যুতসই দক্ষতার ঘাটতি, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তরুণদের জন্য বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিস্তার ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শ্রমবাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে দক্ষতা অর্জন এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের কেবল গতানুগতিক চাকরিপ্রার্থী হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং তাদের দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বা এন্টারপ্রেনার হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। তাদের ভেতরের সুপ্ত মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতার সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন আরও বহুগুণ ত্বরান্বিত হবে।

আরো