ভূমিকম্পের ব্যাপারে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সতর্কতা তৈরির আহ্বান
বিডি মেইল ডেস্ক
ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে না দিয়ে সচেতনতা ও বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই)-এর উদ্যোগে ‘ভূমিকম্প: বাস্তবতা, ধারণা ও সচেতনতার কৌশল’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এ আহ্বান জানান।
আগ্রারগাঁওয়ে বাস্থই কার্যালয়ের সেমিনার হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “পোস্ট ডিজাস্টার নিয়ে কাজ করলে আমরা সরকারকে কার্যকর সুপারিশ দিতে পারব। আমরা দেশকে রক্ষা করতে চাই, দেশের সবকিছুর রক্ষা করতে চাই। একসাথে বাঁচতে চাই।”
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রখ্যাত পুর প্রকৌশলী ও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. শামীম জেড বসুনিয়া, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও লিডিং ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য স্থপতি অধ্যাপক ড. কাজী আজিজুল মাওলা, স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, স্থাপত্য অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার, বাস্থই-এর ফেলো সদস্য স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা মিয়া, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব গোলাম মোস্তফা, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্সের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল হোসাইন চৌধুরী এবং বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্থপতি প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থপতি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) স্থপতি খান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক জগলুল। আলোচনা সঞ্চালনা করেন সহ-সভাপতি (জাতীয় বিষয়াদি) স্থপতি নওয়াজীশ মাহবুব এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ড. মাসুদ উর রশিদ।
ড. শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, অভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে নকশা ও ভবন নির্মাণ যথাযথভাবে তদারকি করা হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো না করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, “ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা না গেলেও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।” ভবন অনুমোদন ও তদারকি ব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, গ্যাস লিকেজ, ভুল নির্মাণ, রেগুলেটরি অথরিটি গঠন, ব্লক ডেভেলপমেন্ট ও টিডিআর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান জানান, সব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভূমিকম্প-সহনশীল ডিজাইনে দক্ষ নন। এজন্য সিপিডি ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাবেক আইএবি সভাপতি কাজী গোলাম নাসির অ-বৈজ্ঞানিক ভূমিকম্প পূর্বাভাস ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, “ভয় নয়, এখন প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।” তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত, সংকীর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ, হাসপাতাল ও সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের সংস্কার ও শক্তিশালীকরণ, আলগা আসবাবপত্র নিরাপদভাবে দেয়ালের সঙ্গে স্থাপন, নতুন ভবন নির্মাণের আগে মাটির পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি বহির্গমনপথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান আয়োজকরা। একই সঙ্গে ভূমিকম্প-সংক্রান্ত ভুল ধারণা দূর করে বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।