বাংলাদেশে আন-অফিসিয়াল পথে ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন আনার অভিযোগ
চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান OnePlus-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন-অফিসিয়াল উপায়ে স্মার্টফোন এনে তা অফিসিয়াল হিসেবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে দেশে প্রবেশের পর অনুমোদিত পণ্যের মতো বাজারজাত করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশে সংযোজিত লো ও মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোন দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ফ্ল্যাগশিপ মডেলের চাহিদা পূরণে এখনো আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। এই সুযোগে কিছু ডিভাইস আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
বিটিআরসি স্টিকার না থাকায় সন্দেহ
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বিধি অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাজারজাত সব মোবাইল ফোনের বাক্সে নির্দিষ্ট যাচাইকরণ বার্তাসহ স্টিকার থাকতে হয়। এতে গ্রাহকরা ১৫-সংখ্যার IMEI নম্বর যাচাই করে ডিভাইসের বৈধতা নিশ্চিত করতে পারেন।
তবে রাজধানীর একাধিক অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মধ্যম মূল্যের কিছু মডেলে স্টিকার থাকলেও দামি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের বাক্সে এই সিল অনুপস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টিকার না থাকা মানে ডিভাইসটি বাংলাদেশের বাজারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি।
দামে পার্থক্য, অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আন-অফিসিয়াল পথে আনা একটি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস প্রায় ১০ হাজার টাকা কম দামে পাওয়া গেলেও অফিসিয়াল হিসেবে বিক্রির সময় মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রতিটি ডিভাইস থেকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, অফিসিয়াল আমদানির ক্ষেত্রে বিটিআরসি অনুমোদন, এলসি, কাস্টমস ডকুমেন্ট এবং প্রযোজ্য কর প্রদান বাধ্যতামূলক। আন-অফিসিয়াল ডিভাইসের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না, ফলে সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অসাধু চক্রের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় এই অনিয়ম দীর্ঘদিন নজরের বাইরে ছিল। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওয়ানপ্লাসের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে OnePlus-এর এক প্রতিনিধি জানান, তাদের পণ্য অনুমোদিত অংশীদারদের মাধ্যমেই বাজারজাত করা হয়। কোনো বিক্রেতা নীতিমালা ভঙ্গ করলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া অভিযোগ যাচাই করা কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক যোগাযোগ ঠিকানায় পাঠানো প্রশ্নেরও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সত্য হলে তা শুধু ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং কর ফাঁকি ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।