আইএসডিই’র উদ্যোগে কিং সালমান মানবিক সহায়তায় ৬০ হাজার পরিবারে খাদ্য বিতরণ
আলী আহসান রবি
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের সহায়তায় বাংলাদেশের ৬০ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ৪২ হাজার খাদ্য প্যাকেট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং ১৮ হাজার প্যাকেট কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটির মধ্যে বিতরণ করা হবে।
আইএসডিই’র “ইমারজেন্সি ফুড অ্যাসিসটেন্স ফর রোহিঙ্গা অ্যান্ড হোস্ট কমিউনিটি ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি ও ১ কেজি লবণ দেওয়া হবে।
গত ২ মার্চ ঢাকায় সৌদি দূতাবাসে এক অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সৌদি দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আলাহমারি, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-মুতাইরী, ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই’র নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সৌদি দূতাবাসের রাজনৈতিক ও মিডিয়া অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ইয়াসির শেশাহ।
কর্মসূচির আওতায় ৩ মার্চ মহাখালীর টিএন্ডটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মিরপুরের পল্লবী বিদ্যা নিকেতনে ১ হাজার ৭৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করা হয়। ৪ মার্চ মোহাম্মদপুরের আদাবরে ১ হাজার ৭০ পরিবার এবং ৫ মার্চ ধানমন্ডির রায়েরবাজার হাই স্কুলে ১ হাজার ১৩০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।
খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর (কাপ)-এর নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সানিয়াত, বাপার কোষাধ্যক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য আমিনুর রসুল (বাবুল), নারী নেত্রী মাসুদা ফারুক রত্না, এডাবের পরিচালক একেএম জসিম উদ্দীন এবং আইএসডিই’র কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার বিশ্বের ১৫টি দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। চলতি বছর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ৬০ হাজার খাদ্য বাস্কেট বিতরণ করা হচ্ছে।
সৌদি দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আলাহমারি বলেন, এই উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছায় এবং মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত হয়।
আইএসডিই’র নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মানুষের আয় কমে গেলেও খাদ্য ব্যয় বেড়ে যায়। এ সময়ে ৬০ হাজার সুবিধাবঞ্চিত পরিবার এই সহায়তা পেলে তাদের খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণে সহায়ক হবে।