রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে যাচ্ছে পিরোজপুরের মরিচ

পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ শুধু দেশে নয়, রপ্তানি হচ্ছে দেশের বাইরেও। আর এ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায় কয়েক হাজার পরিবার। এ উপজেলা দুটিতে চাষ হওয়া ঘৃত্তকুমারী নামের এক জাতের বোম্বাই মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চীন, জাপানের মতো দেশে। ফলে মরিচ রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে ব্যবসায়ীরা।

জেলার প্রায় অধিকাংশ বাড়িতে পরিবারের চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপন করা প্রচলিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার গ্রামগুলোও এর ব্যাতিক্রম নয়। এসব এলাকায় পারিবারিক চাহিদা পূরণ থেকে সৃষ্টি হয় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে চাষাবাদ। ঘৃত্তকুমারী নামে এক জাতের মরিচের ভাল ফলন হওয়া শুরু করে। সুন্দর ঘ্রান ও প্রচুর ঝাল থাকায় বাজারে এর চাহিদা বেড়ে যায়।

স্থানীয় চাষিরা জানান, মৌসুমে এক একটি মরিচ বিক্রি হয় ৩ থেকে ১০ টাকায়। ফলে নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি, কামারকাঠি ও নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা, বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষ শুরু হয় এ মরিচের। বিভিন্ন জেলায় বিক্রির পাশাপাশি ২০১২ সালে প্রথম এখান থেকে জাপানে রপ্তানি করা হয় এ মরিচ। এরপর থেকে প্রতিবছর দেশটিতে মরিচ রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে ৭ থেকে ৮ মাস ফল দেয়। আর এক একটি গাছে চার শত থেকে এক হাজার পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। ফলে এটি একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের এটি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। এটির উৎপাদন আরো বাড়লে বিদেশের সাথে কৃষকদের সংযোগ তৈরীর প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

আরো