Tuesday, 30 June, 2026, 2:45 pm

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৭০০ ছাড়াল

মধ্য-উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পরও চলছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের উদ্ধারের চেষ্টার মাঝেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

২৪ জুনের এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হলেও, পুরো অঞ্চলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০০ মানুষ আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২০০০-এরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ ও ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ১০,০০০ মৃতদেহ রাখার ব্যাগ (বডি ব্যাগ) সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, রবিবার (২৮ জুন) ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের ২০০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি দূরন্ত অনুসন্ধানকারী কুকুর মোট ৪০টি দলে বিভক্ত হয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশের মোট সাতটি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ‘লা গুয়াইরা’ রাজ্য এবং রাজধানী কারাকাসের ‘ডিস্ট্রিটো ক্যাপিটাল’ এলাকায়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের প্রায় ২,৫০০টি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার একটি বড় অংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিনিধি রামপোলা সামগ্রিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক একটি পরিবেশের মধ্যে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’ এদিকে আবহাওয়া ও প্রকৃতির প্রতিকূলতার কারণে স্থলভাগের উদ্ধার অভিযান চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৫.২ মাত্রার কম্পনটি অন্যতম।

এর ওপর দুর্গত এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ধসে পড়া ভবনগুলোর উদ্ধারকাজকে আরো জটিল করে তুলছে।

আরো