শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের মিডিয়েটর সিস্টেম শক্তিশালী করতে জাইকা’র আয়োজনে বেসিক মিডিয়েটর ট্রেনিং

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আইনি পেশাজীবীদের জন্য দুই দিনব্যাপি বেসিক মিডিয়েটর (মধ্যস্থতা) ট্রেনিংয়ের আয়োজন করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

৩১ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত ট্রেনিংয়ে প্রায় ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে স্পেশাল মিডিয়েটর, লিগ্যাল এইড অফিসারস ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর (ডিবিএলএ), বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (জাটি) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তাবৃন্দ ছিলেন।

৩১ জুলাই ট্রেনিংয়ের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা। সেসময় তিনি সবার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিত ও সময়মতো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মিডিয়েটর সার্ভিসকে আর শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া, ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মো: আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জাইকা’র (বাংলাদেশ) চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো।

বক্তব্যকালে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ও মাননীয় সংসদ সদস্য মো: আসাদুজ্জামান বলেন, “বিরোধ নিষ্পত্তি’র একটি কার্যকর, সহজলভ্য ও জনবান্ধব পদ্ধতি হলো মিডিয়েশন বা মধ্যস্থতা। নতুন প্রতিষ্ঠিত স্পেশাল মিডিয়েটর সিস্টেম আদালতে মামলার জট কমাতে ও জনগণকে সহজে ন্যায্য বিচার পেতে ভূমিকা রাখবে। এই ট্রেনিং থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জনগণের পাশে থাকতে আমি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

ট্রেনিং পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জাপানের মিডিয়েশন এক্সপার্ট অধ্যাপক মিয়াতাকে মাসাকো। তিনি লেকচারের পাশাপাশি ব্যবহারিক অনুশীলনও পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা মিডিয়েটর নীতি ও প্রক্রিয়া, যোগাযোগ, সমঝোতার কৌশল, মিডিয়েটরদের নৈতিকতা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা এবং রোল-প্লে ও মক মিডিয়েশন সেশনের মাধ্যমে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেন।

সবার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে, ‘মিডিয়েটর ও দেওয়ানি মামলা পরিচালন পদ্ধতি উন্নয়ন’ প্রকল্পের (অ্যাক্সেস টু জাস্টিস) মাধ্যমে জাইকা বাংলাদেশ সরকারকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মিডিয়েশনের ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করে আসছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের আওতায়, নরসিংদী ও কুমিল্লায় একটি পাইলট কার্যক্রম চালানো হয়, যেখানে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ৪২ জন লয়্যার-মিডিয়েটরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে, xxx টি মামলা মিডিয়েশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। সেই কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে সংশোধিত লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে স্পেশাল মিডিয়েটর সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে এই প্রকল্পের অধীনে গড়ে ওঠা লয়্যার-মিডিয়েটর মডেলটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

চালুর পর থেকে নতুন এই পদ্ধতির কার্যকর ও টেকসই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাইকা ডিবিএলএ সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এই সহযোগিতার আওতায় রয়েছে; মিডিয়েটর ও লিগ্যাল এইড অফিসারদের সক্ষমতা উন্নয়ন, মিডিয়েশন প্রসঙ্গে জাপানের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় এবং বিচার খাতের অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার। এসব লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল এই বেসিক মিডিয়েটর ট্রেনিং। আইনি পেশাজীবী ও মিডিয়েটরদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত মিডিয়েশন সার্ভিস প্রদান, সহজে ন্যায্য বিচার লাভ এবং বাংলাদেশে দেওয়ানি-পারিবারিক বিরোধ আরও দক্ষভাবে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই ট্রেনিং ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের সাথে মিডিয়েটর সিস্টেম শক্তিশালীকরণ ও সবার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত রাখতে জাইকা বদ্ধপরিকর। এই ধারাবাহিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে, ২০২৬ এর শেষভাগে ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়েশন ট্রেনিং’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য স্পেশাল মিডিয়েটরদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন সিস্টেমের কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

আরো