স্টার্কের ‘ছক্কায়’ ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
বিডি মেইল ডেস্ক:-
ম্যাকাইয়ে একে একে সবাই ফিরলেন। লাঞ্চে যাওয়ার সময় শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে ছিলেন শুধু মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনি কিছু একটা করবেন এমনই আশা ছিল হয়তো অনেকের।
তবে দ্বিতীয় সেশন শুরু হতেই সব আশা শেষ। অন্যরা যেভাবে মন ভেঙেছেন মিরাজও তা-ই করলেন। ব্যক্তিগত ১১ রানে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশি ব্যাটার ফিরে এসে আর কোনো রানই যোগ করতে পারলেন না।
প্যাট কামিন্সের করা ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে থার্ড স্লিপে দাঁড়ানো বিউ ওয়েবস্টারকে ক্যাচ দিলেন।
ফিরতি ওভারে তাকে অনুসরণ করলেন হাসান মাহমুদও। ব্যক্তিগত ১০ রানে তিনি ফিরলেন জশ হ্যাজলউডের বলে। নবম ব্যাটার হিসেবে তাসকিন আহমেদ (১) কামিন্সের শিকার হলে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা জাগে বাংলাদেশের।
সেই বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম। দুই ইসলাম শেষ উইকেটে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটিও গড়েন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রানে শরীফুল আউট হলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৬৪ রানে। বিপরীতে মিরাজের সমান ১১ রান করা অপরাজিত তাইজুল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর।
বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৪৩ রানের। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
এর আগে ডারউইন টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ম্যাকাইয়ে খেলতে নেমে বিভিষীকাময় এক সেশন কাটায় বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ের টেস্ট অভিষেকে মিচেল স্টার্কের আগুন ঝড়া বোলিং দেখেছে বাংলাদেশ। তার গোলায় দলীয় ২১ রান করতেই ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনের প্রথম ৫ উইকেটই নেন স্টার্ক। অন্যটি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের খাতায়। এতে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ করতে পারে ৬ উইকেটে ৩৫ রান।
এর আগে ইনিংসের প্রথম বল থেকে বিপদ শুরু হয় বাংলাদেশের। স্টার্কের করা ফুল লেন্থের বল খেলতে গিয়ে ক্যামেরন গ্রিনকে গালিতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। ফিরতি ওভারে প্রথম দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে রানের খাতা খোলার আগে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। যদিও পরে পাননি তিনি।
আউট হওয়া প্রথম তিন ব্যাটারই ‘ডাক’ মারেন। ইনিংসের ৫ ওভারে মমিনুল হককেও আউট করেন স্টার্ক। ৯ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটার। আর সপ্তম ওভারে লিটন দাসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন অজি পেসার। পরে শরীফুলকে আউট করে ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ ব্যাটার একের পর এক ডিফেন্স করে ৪২ বল খেললেও শেষ পর্যন্ত ফিরেই গেলেন। ব্যক্তিগত ৫ রানের সময় প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে।
বাংলাদেশকে এমন ধ্বংসস্তূপে দাঁড় করানো স্টার্ক ৫ উইকেট নিতে বল খরচ করেছেন ২২টি। তাতে এক কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার। বলের হিসাবে দ্রুততম ফাইফারে ৫ নম্বরে তার আজকের এই বোলিং ইনিংসটি। দ্রুততমটা অবশ্য তারই দখলে। গত বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিতে ১৫ বল লেগেছিল তার। ক্যারিবিয়ানরা অলআউট হয়েছিল ২৭ রানে।
