বাসযোগ্য নগরী গঠনে নিরাপদ হাঁটা ও গণপরিবহনে জোর
বিডি মেইল ডেস্ক
অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকায় পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা, জলাধার ও জলাভূমি কমে যাওয়ায় তাপমাত্রা, দূষণ, যানজট ও নগর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ফুটপাত, রাস্তা পারাপার, সাইকেল চলাচল ও মানসম্মত গণপরিবহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার রাজধানীতে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘বাসযোগ্য নগরী গঠনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করেন। বিপরীতে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। তাই নগর পরিকল্পনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চলাচলের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তারা বলেন, নগরের পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণের পাশাপাশি এসব স্থান সবার জন্য উন্মুক্ত ও প্রবেশগম্য করতে হবে। একই সঙ্গে কাঁচাবাজারগুলোকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সভায় ফুটপাত দখলমুক্ত ও প্রশস্ত করা, সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট লেন ও রুট নেটওয়ার্ক তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শহরের খাস জমি দখলমুক্ত করে পুকুর খননের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা, পরিবেশ দূষণের উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মাঠ ও পার্কগুলো কোনো ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে না রেখে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখতে হবে। এসব স্থানে খেলাধুলা ও প্রবেশের জন্য কোনো অর্থ নেওয়া উচিত নয়। এতে নগরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য গণপরিসর ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত হবে।
কাঁচাবাজার উন্নয়নে দক্ষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত মনিটরিং এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়ের প্রবেশগম্যতা ও অধিকার নিশ্চিত করে বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নেরও দাবি জানান বক্তারা।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিঠুনের সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারী। বক্তব্য দেন সমাজকর্মী ও তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, বাপার হুমায়ুন কবির সুমন, ক্যাবের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় স্থানীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই নগর গঠনের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
পরে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে হাঁটা ও সাইকেল চলাচল, নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত, মাঠ-পার্ক ও গণপরিসর উন্নয়ন, জলাধার সংরক্ষণ, দূষণ হ্রাস এবং কাঁচাবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
সভায় বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, গাড়িমুক্ত সড়ক ও স্কুলভিত্তিক প্রচারণা কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়।
