মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ

ডিজিটাল প্রবৃদ্ধি ও এআইতে জোর, ৫ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ রূপকল্প বাস্তবায়নে সরকার সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ, বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করা এবং আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়নে হুয়াওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং সমৃদ্ধ, বিনিয়োগনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে সরকার পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি ও নীতিগত কাঠামো, নির্ভরযোগ্য সংযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন।

তিনি জানান, একটি জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার। সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হুয়াওয়ে। সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন সেবা উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও সংযোগব্যবস্থা, শিল্পখাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রবণতা ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (এফডব্লিউএ), এন্টারপ্রাইজ কানেক্টিভিটি এবং বিভিন্ন শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় ফাইভজি এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, অটোমেশন ও এআইভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ক্লাউড অবকাঠামো, মানসম্মত তথ্য, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সহায়ক নীতিমালা প্রয়োজন। ব্যাংকিং, উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা এবং সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট এডুকেশন, ডিজিটাল পাওয়ার, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সমাধান তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ডিজিটাল পাওয়ার, এআই ও এন্টারপ্রাইজ এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

আরো