Sunday, 12 July, 2026, 5:03 am

ঢাকা-১৯ আসনে জিএমএল মনোনীত শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম মৃধার ব্যাপক গণসংযোগ

নিজস্ব প্র‌তিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৯ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (জিএমএল) মনোনীত প্রার্থী ও শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম মৃধা ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেছেন। বুধবার দিনব্যাপী তিনি সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, হাট-বাজার, শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল এবং সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকায় গণসংযোগ পরিচালনা করেন।

গণসংযোগকালে তিনি সাধারণ জনগণ, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবিদাওয়া মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এ সময় কামরুল ইসলাম মৃধা বলেন,“আমি একজন শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতি করছি। ঢাকা-১৯ আসনের শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ ও সাধারণ জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শ্রমিকদের নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রার্থী এসব সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

গণসংযোগ শেষে তিনি ঢাকা-১৯ আসনের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

এদিকে, জিএমএল মনোনীত প্রার্থী ও শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম মৃধা ইতোমধ্যে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সামাজিক সমস্যা সমাধান ও সার্বিক জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে—
সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণ, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আবাসন (কোয়ার্টার) নির্মাণ, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের সন্তানদের শিক্ষা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু।

এছাড়া ঢাকা-১৯ আসনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও চলাচলের উপযোগী সড়ক নির্মাণ, আজিমপুর এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপন, পুরাতন সরকারি কবরস্থান সংস্কার এবং সরকারি খাস জমিতে নতুন কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জামগড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য সম্মানী ভাতা, শিল্পকারখানার ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের সম্মানী ভাতা এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে সাভার ও আশুলিয়ার হাট-বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখল রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন এবং বাসস্টপেজে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

এ সময় কামরুল ইসলাম মৃধা বলেন,“ঢাকা-১৯ আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি এবং হারিকেন প্রতীকে একটি ভোট প্রার্থনা করছি।”

আরো