বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণতের আহ্বান পবার

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক

ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। সংগঠনটি বলছে, তামাক কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
এক বিবৃতিতে পবা জানায়, তামাক উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবহার—প্রতিটি ধাপই পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সিগারেট উৎপাদনের জন্য ব্যাপক হারে গাছ কাটার ফলে বনভূমি উজাড় হচ্ছে, বাড়ছে বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তামাক কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধুলিকণা ও রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৯ মানুষ অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। এছাড়া তামাকজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এসব ক্ষতি দেশের টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পবা আরও জানায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন হিসেবে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও, এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়ার উদ্যোগ উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিধান বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সংগঠনটির মতে, তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেটকে কম ক্ষতিকর হিসেবে প্রচার করে এর ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা বিভ্রান্তিকর এবং বিপজ্জনক। বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ইতোমধ্যে ১৩২টি দেশ এটি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি বলে মনে করছে পবা। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, জনপ্রতিনিধিরা তামাক কোম্পানির অনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে অধ্যাদেশটির সব বিধান অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত আইন প্রণয়ন করবেন।

আরো