উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
আলী আহসান রবি
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী সৃজন, টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মান, পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার নির্মানসহ সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি। তিনি আরও বলেন প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে উপকূল অঞ্চলের মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন, বন্যা ও প্লাবনের হাত থেকে উপকূলকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ভয়াল ২৯ এপ্রিল ৯১ স্মরণে ‘উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর ছয়টি মারাত্মক দুর্যোগ প্রবণ এলাকার অন্যতম। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিচয় স্মরণাতীতকাল থেকেই। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় যা আঘাত হেনেছিলো উপকূলীয় ভূখণ্ডের কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চকরিয়া, সন্ধীপ, সীতাকুণ্ড ও হাতিয়ায়।
এ্যানি চৌধুরী আরও বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হেনেছিলে তখন সরকারের বয়স ছিলো মাত্র তিন মাস। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার অত্যান্ত দূরদর্শিতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলো।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরুজ্জীবিত করছে। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল, পুকুর এবং জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। এছাড়াও ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন করা হবে যা উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেস্টনী তৈরী করবে বলে জানান মন্ত্রী।
উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড মোহাম্মদ কামাল হোসাইন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।