মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

২০২৫ সালে আইপিডিসি’র মুনাফা বেড়েছে ২৫.৩৯ শতাংশ

বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ২০২৫ সালের নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৫ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই অর্জন আইপিডিসি’র ব্যবসায়িক মডেলের স্থিতিশীলতা প্রমাণ করে। শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে পরিচালনা পর্ষদ ১০% লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৫% নগদ ও ৫% স্টক। বিনিয়োগ আয়, সুদ আয়ের বৃদ্ধি, বহুমুখী কৌশলগত পোর্টফোলিও এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এই অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১.১১ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট সুদ আয় ৮.৫০% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯,৫৬০ মিলিয়ন টাকা। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আগের বছরের তুলনায় কোম্পানির পরিচালন আয় ৭.৪৩% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৪৮৪ মিলিয়ন টাকা এবং বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ৯৩.২৯ শতাংশ। যা ট্রেজারি ইয়েল্ড ও পুঁজিবাজারে কৌশলগত পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার ফলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩২৪ মিলিয়ন টাকা।

আইপিডিসি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সঠিক নিয়োগ ও পারফর্ম্যান্স আরও উন্নত করে পরিচালন ব্যয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গত বছরের পরিচালন ব্যয় ১০.৩৩% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৩১ মিলিয়ন টাকা এবং পরিচালন মুনাফা ৫.০১শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৫৩ মিলিয়ন টাকা। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ মিলিয়ন টাকা।

২০২৫ সালের শেষে ঋণ, লিজ ও অগ্রীমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪,৬২২ মিলিয়ন টাকা, যা আগের তুলনায় ৭.৩১% বৃদ্ধি পেয়েছে। আমানত আগের বছরের তুলনায় ১৪.৬০% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২,২৪৯ মিলিয়ন টাকা, যার মাধ্যমে ১২.১৮% বাজার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়েছে এবং গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা ও ব্র্যান্ডের স্থিতিশীলতা প্রকাশ পেয়েছে।

উচ্চতর মুনাফা অর্জনে রিটার্ন অন ইক্যুইটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৭৪% এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭.৮৫ টাকা। শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৯.৯৪ টাকা, যা ভবিষ্যতে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে আইপিডিসিকে সাহায্য করবে।

এ প্রসঙ্গে আইপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, “২০২৫ সালে আমরা পরিকল্পিত বাস্তবায়ন ও কৌশলগত স্থিতিশীলতায় বাড়তি মনোযোগ দিয়েছি। চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিবেশেও আমরা বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে আয়ের উৎস বাড়িয়েছি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে আয়ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছি। পোর্টফোলিও’র মান, দক্ষ মূলধন ব্যবহার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা টেকসই মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছি এবং ব্যালান্স শিট আরও শক্তিশালী করেছি। দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন বাড়াতে কাজ করবো।”

আরো