কুবিতে নির্ধারিত সময় পার হলেও বন্ধ সিন্ডিকেটে, আটকে আছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি
কুবি প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৪ মাস ধরে বন্ধ আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬ এর সিন্ডিকেটের কার্যপরিচালনা বিধি অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে একবার সিন্ডিকেট সভা হওয়ার নিয়ম রয়েছে৷ ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেশ কয়েকবার সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত নিয়েও বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ৭ মে আবারও সভা (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে সিন্ডিকেট সভা না হওয়ায় একাডেমি কাউন্সিলের গৃহীত সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে পাশ ও ২৫ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে রয়েছে বলে জানা যায়। ফলে আপগ্রেডেশন, বেতন ভাতা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮ তম সিন্ডিকেট সভা হয়। যা সিন্ডিকেটের কার্যপরিচালনা বিধির লঙ্ঘন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনবার তারিখ ঘোষণা করেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার হুমকি ধমকির কারণে সভা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
সিন্ডিকেট না হওয়ার কারণ নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাসুদা কামালের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এইবার আগামী ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নতুন করে সিন্ডিকেট সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দায় আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা সিন্ডিকেট সভা করতে বাধ্য হচ্ছি। অন্যথায় আমাদের সরকারের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। ক্যাম্পাসে না করে ঢাকা কেন সিন্ডিকেট সভা করতেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট সভার অধিকাংশ সদস্যদের ব্যস্ততার কারণে তারা কুমিল্লা আসতে পারতেছে না । তাই আমরা সিন্ডিকেট ঢাকায় করতেছি। সিন্ডিকেট সভায় কি কি এজেন্ডা আছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার দেখে বলতে হবে । কোন নিয়োগের বিষয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন নিয়োগ নেই তবে কিছু শিক্ষকের আপগ্রেডশন আছে।
এদিকে সিন্ডিকেট সভা না হওয়ায় বহ্যত হচ্ছে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ ও ৯২ তম অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে পাশ করা হয়নি। ৯২ তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ১২জন শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷ কিন্তু সিন্ডিকেট না হওয়ায় তাদের বিষয়টি ধোঁয়াশা থেকে যায়৷ পরে এই বিষয়ে উপাচার্যের বিশেষ সিদ্ধান্তে সমাধান আসে। এছাড়াও কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের রেজাল্ট ও সিলেবাস চূড়ান্ত অনুমতির জন্য আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে৷
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিভিন্ন বিভাগের মোট ২১ জন শিক্ষক ও ৪জন পদোন্নতি (প্রমোশন) প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। আপগ্রেডেশন নীতিমালার আওতায় নিয়োগ বাছাই ও পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পরিসংখ্যান বিভাগের ড. জে. এম. আদিব সালমান চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের নবীন কর কুন্তু, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সাইদুল আল-আমীন ও মাহবুব আলম এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ড. মোঃ খলিলুর রহমান।
অন্যদিকে, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন পরিসংখ্যান বিভাগের প্রিয়াংকা পাল, আফরিনা আক্তার মিশু, রসায়ন বিভাগের মোঃ রাসেল মনি ও ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন, সিএসসি বিভাগের মো. হাসান হাফিজুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মোহাম্মদ নাসির হুসেইন, লোক প্রশাসন বিভাগের
ড. কৃষ্ণ কুমার সাহাসহ আশিকুর রহমান ও মো. নাজমুল হক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ড. মোঃ বেলাল হুসাইন, মার্কেটিং বিভাগের ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ড. মোঃ মঞ্জুর হোসেন, গণিত বিভাগের মোঃ আতিকুর রহমান এবং ইংরেজি বিভাগের ইসরাত জাহান নিমনী।
এছাড়াও প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন বাংলা বিভাগের মোঃ গোলাম মাহমুদ পাভেল এবং আইসিটি বিভাগের কাশমী সুলতানা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শিক্ষকদের অধিকাংশ বাছাই বোর্ড জানুয়ারি ২০২৬ মাসে অনুষ্ঠিত হলেও কিছু বোর্ড মে মাসেও সম্পন্ন হয়েছে বিশেষত আগামী ৬ মে ২০২৬ তারিখে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীরা আপগ্রেডেশন বোর্ডে অংশ নিবেন। তবে সিন্ডিকেট সভা না হওয়ায় এসব সুপারিশ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কল দিবেন বলে জানিয়েছেন। মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আওলাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হলে পরবর্তীতে ফ্রি হয়ে কল দিবেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক গোলাম মাহমুদ পাভেল বলেন, আমাদের আপগ্রেডেশন বোর্ড বসার কথা ছিলো। পরবর্তীতে আমাকে একটি মেইলে করে জানানো হয় যে – অনিবার্য কারণে বোর্ড স্থগিত থাকবে। হয়তো প্রশাসনিক জটিলতা কেটে গেলে বোর্ড বসবে। অনেকেরই প্রমোশন হইতে বছর, দেড় বছর লাগে। তবে ঠিক টাইমে নাহলে আমি হয়তো আমার এলাউয়েন্সটা পাবো না।
সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সবাই সবার অধিকার অনুযায়ী সঠিক সময়ে প্রমোশন যাতে পায়’।
আরেক কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় স্টোর পরিচালক ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মিনহাজুল আবেদীন মজুমদার বলেন, ‘আমি শুধু একটি কথাই বলবো – তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ’।
একদিকে কর্মকর্তাদের মধ্যে পদোন্নতি অপেক্ষায় থাকা চারজন হলেন, সহকারী রেজিস্ট্রার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে মোঃ মিনহাজুল আবেদিন মজুমদার ও মোঃ মনিরুজ্জামান। কম্পিউটার অপারেটর থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে মোহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও তাহমিনা আক্তার৷