শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ

মোড়কজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি ও লবণ শনাক্তে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জরুরি

মোড়কজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির উপস্থিতি সহজে বোঝার জন্য কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজ ভাষা, চিহ্ন বা সতর্কবার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়— কোনো পণ্যে চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট কিংবা ট্রান্স-ফ্যাটের মাত্রা অতিরিক্ত কি না। এর ফলে ভোক্তারা দ্রুত ও সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ হন। আজ শনিবার (০৯ মে ২০২৬) সকালে ঢাকার বাংলামটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে “জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং: বিদ্যমান আইন ও নীতি” শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটির আয়োজন করেন সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্ক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, এবং সিটিজেন নেটওয়ার্ক–সিনেট।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সেন্টার ফর ল পলিসি এফের্য়াস এর সেক্রেটারি এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আমল। তিনি তার প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে বলেন বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে এসব রোগের কারণে এবং ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৯ শতাংশ। এই বাস্তবতায় অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং একটি কার্যকর ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উদ্যোগ।

সভায় বক্তারা বলেন, শিশু ও তরুণদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবারের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও এসব পণ্যের পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় না। এর ফলে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হন এবং অজান্তেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ শিশুদের মধ্যে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি)-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের হার দ্রুত বাড়ছে। ২০১৬ সালে যেখানে এই হার ছিল ১৩.২ শতাংশ, সেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৭ শতাংশে। পাশাপাশি, অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যার বড় অংশই ব্যয় হয় ওষুধ ক্রয়ে।

বক্তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং চালু করা হলে ভোক্তারা খাদ্যের ঝুঁকি সহজে বুঝতে পারবেন, বিভ্রান্তিকর বিপণন কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আলোচনা সভা থেকে দ্রুত কার্যকর, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়, যাতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন ফরিদা আখতার, সাবেক উপদেষ্টা ও নির্বাহী পরিচালক উবেনিগ। উক্ত আলোচনা সভায় নীতি বিশ্লেষক কামরুননিছা মুন্নার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার নিশাত মাহমুদ, সদস্য-সচিব পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওর্য়াক, তাইফুর রহমান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গাউস পিয়ারী পরিচালক ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, মোঃ বজলুর রহমান সহযোগী অধ্যাপক ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-র এডভোকেট সুলতান মুহাম্মদ বান্না, ব্যারিষ্টার বিভতি তরফদার, এডভোকেট মমতাজ পারভীন, এডভোকেট মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, এডভোকেট মোঃ শাহাদত হোসেন, এডভোকেট মারুফ উল আবেদ, এডভোকেট শাহানেওয়াজ পাটয়ারী, এডভোকেট শাহদাত হোসাইন, এডভোকেট নিশাত তামন্না ঐথি, মোঃ মোস্তফা খান, সহযোগী অধ্যাপক, ব্রাক ইউনির্ভাসিটি, অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক, ডাস্ বাংলাদেশ, শাগুফতা সুলতানা পরিচালক সেতু ফাউন্টেশন, সৈয়দা অনন্যা রহমান হেড অব প্রোগ্রাম ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ফারহানা জামান লিজা, প্রোগ্রাম কো অডিনেটর টিসিআরসি, অধ্যাপক আ ফ ম সারোয়ার পরামর্শক সিএলপিএ, প্রমুখ।

আরো