ইউসিবির উদ্যোক্তা শেয়ার আত্মসাৎ, লাপাত্তা সালথা ক্যাপিটাল
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবিএল) উদ্যোক্তার সব শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্রোকারেজ হাউস সালথা ক্যাপিটাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার সব্বির আহমেদের সম্মতি ছাড়াই ২ কোটি ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪১৭টি শেয়ার বিক্রির অভিযোগে উঠেছে। শেয়ার আত্মসাতের পর প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাপাত্তা রয়েছে। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
গত ৭ জুন বিএসইসিতে লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, সব্বির আহমেদের মালিকানাধীন ২ কোটি ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪১৭টি স্পন্সর শেয়ার বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সিডিবিএল রিপোর্টে তার বিও অ্যাকাউন্টে ইউসিবিএলের মোট ২ কোটি ৮৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৭টি শেয়ার ছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৬৬ হাজার ২টি ছিল ফ্রি ব্যালেন্স এবং ১ কোটি ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৮১৫টি ছিল ব্লক ব্যালেন্স। তবে পরবর্তী রিপোর্টে ইউসিবিএলের মাত্র ৮২ লাখ ২২ হাজার ৪০০টি শেয়ার প্রদর্শিত হয় এবং ফ্রি ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হয়। ফলে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪১৭টি শেয়ারের ঘাটতি দেখা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পূর্ববর্তী পোর্টফোলিও স্টেটমেন্টে প্রদর্শিত ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) ১১ হাজার ৬৮৫টি শেয়ারও পরবর্তী সিডিবিএল রিপোর্টে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সালতা ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামায় তাঁর মালিকানাধীন ২ কোটি ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪১৭টি ইউসিবিএল শেয়ার অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়েছে এবং শেয়ার অথবা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সব্বির আহমেদ বলেন, একজন সাবেক পরিচালক ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তাঁর শেয়ারগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের তুলনায় অধিক সংবেদনশীল। এ ধরনের শেয়ার স্থানান্তর বা বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি থাকা দরকার।
বিএসইসির কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট লেনদেন যাচাই, অনুমতি ছাড়া শেয়ার বিক্রি বা স্থানান্তর হয়েছে কি না তা নির্ধারণ, সালতা ক্যাপিটালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্ত এবং হারিয়ে যাওয়া ইউসিবিএল ও ইবিএলের শেয়ার পুনঃস্থাপন অথবা সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুরও আহ্বান জানান তিনি।
এবিষয় জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, যেসব অভিযোগ আসছে আমরা সাথে সাথে ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছি ভেরিফাই করার জন্য। একই সঙ্গে এধরনের ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে কাজ করছে।