জাপান ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরলো এইচএসবিসি
বিডি মেইল ডেস্ক
এইচএসবিসি বাংলাদেশ সম্প্রতি রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজন করেছে একটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট — “Japan–Bangladesh Business Connections: Legacy and the Future”। এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে উদযাপন করা হয় এবং জাপান-বাংলাদেশ ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। দেশটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে অনুদান, ঋণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ODA) দিয়েছে। জাপানের এই সহযোগিতা অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। বর্তমানে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্প, যমুনা রেলওয়ে ব্রিজ এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পসহ বেশ কিছু বড় উদ্যোগে জাপান কাজ করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৫০টিরও বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক এবং শিল্পখাতের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাহবুবুর রহমান, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; নাহিয়ান রহমান রোচি, নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসায় উন্নয়ন প্রধান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা); কারাসাওয়া শিনজু, ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অব ইকোনমিক কো-অপারেশন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের দূতাবাস; এবং হিরোটাকা শিবাতা, ডিরেক্টর, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, এইচএসবিসি জাপান।
ইভেন্টে নাহিয়ান রহমান রোচি “বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ” বিষয়ে একটি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিডা’র সহযোগিতামূলক কাঠামো ও নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
মাহবুবুর রহমান, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেন,
“জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এইচএসবিসির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করবে।”
বিশেষ অতিথি কারাসাওয়া শিনজু বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার নির্ভরযোগ্য অংশীদার। আজকের ইভেন্টের থিম ‘Legacy and the Future’ আমাদের সম্পর্কের অতীত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতিফলন। সামনে আমরা ডিজিটাল রূপান্তর, সবুজ জ্বালানি, লজিস্টিকস ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পে আরও সহযোগিতা বাড়াতে চাই।”
হিরোটাকা শিবাতা, ডিরেক্টর, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, এইচএসবিসি জাপান বলেন,
“এইচএসবিসি জাপান এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশ দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করছে। এই ইভেন্ট দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে আরও জোরদার করার যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।”
শাদাব হোসেন, হেড অব গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং, এইচএসবিসি বাংলাদেশ বলেন,“জাপানি বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশি অংশীদারদের একত্রিত করে এমন একটি আয়োজন করতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এই সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজকের আয়োজনটি শুধুমাত্র একটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও যৌথ সাফল্যের উদযাপন।”
এইচএসবিসি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাপান ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় দক্ষতার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি দুই দেশের মধ্যে ক্রস-বর্ডার ট্রেড ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।