সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম আর নেই
না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তার ছেলে নাফিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সবশেষ কিছুদিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নাফিজ চৌধুরী আরও জানান, হাসপাতালে থাকাবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েকদিন আগে তার বাবাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছিল। এরপর সেখান থেকে ফিরেও এসেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। তবে সোমবার ভোরে হঠাৎই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম শহরের ওআর নিজাম রোডের বিভারলি হিল সোসাইটির বাসার সামনে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় নিজ নির্বাচনি এলাকা চন্দনাইশের কাঞ্চনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
সবশেষ ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর একই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুখে সংসদ বিলুপ্ত হলে তার মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদের অবসান ঘটে।