রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হলেন আশিক চৌধুরী

বিডি মেইল ডেস্ক

নতুন গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন এই একক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্কও রাখা যাবে না। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রে নির্ধারিত হবে।

এর আগে আশিক মাহমুদ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন।

দেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে বিডা, বেজা এবং পিপিপিএকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গত ১৫ জুলাই ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হয়।

পরে গত ২০ আগস্ট গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর নতুন এই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগ নিবন্ধন ও অনুমোদন, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রকল্পসংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য একক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নতুন কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগের অনুমোদন, লাইসেন্স ও নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া, প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা আরও সমন্বিতভাবে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব ধরনের সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার বিধানও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিটের সুপারিশ, বিনিয়োগ চুক্তিতে সহায়তা, শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দ এবং সরকারি অব্যবহৃত শিল্পসম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতাও নতুন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, বিডা, বেজা ও পিপিপিএর কার্যক্রম একীভূত হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরো