রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল: আনোয়ারুল ইসলাম

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে একসঙ্গে দেশের সব ইউনিয়নে ভোট না নিয়ে ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠিন। তাই সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টিও নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভোটকেন্দ্র হিসেবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হওয়ায় এবং শিক্ষকরাই প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করায় পরীক্ষা শুরুর আগে অথবা শেষ হওয়ার পর ইউপি নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

ভোটার স্থানান্তর প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ভোটার স্থানান্তর একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। এটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনিয়ম ও বিভ্রান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে ‘না’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেতিবাচক অবস্থান রয়েছে বলে জানান তিনি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও কমিশন মনে করে, শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে।

এতে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান কমিশনার।

ইসি সরকারের চাপে রয়েছে—জামায়াতের এমন অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবি মূলত নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার একটি কৌশল।

উপনির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিক করতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। সাধারণ ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ভোটিং আরও সহজ ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরো