স্কুলছাত্রের মৃত্যুর পর বাবাকে অনাপত্তিপত্রে সই করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শায়নের মৃত্যুর ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত শিশুটির বাবা সাজু আহম্মেদকে সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার অঙ্গীকারসংবলিত একটি অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনা সম্পর্কে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে সাজু আহম্মেদকে ফোন করে জানানো হয়, তাঁর সন্তান সামান্য দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তাঁকে স্কুলে এসে সন্তানকে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে স্কুলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির মরদেহ দীর্ঘ সময় বাসের নিচে পড়ে ছিল।
বিবরণে আরও বলা হয়েছে, স্কুলে পৌঁছানোর পর সাজু আহম্মেদকে প্রথমে সন্তানের মরদেহ দেখতে না দিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর করার শর্ত দেওয়া হয়। ওই নথিতে স্বাক্ষর না করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনাপত্তিপত্রে সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ বা ফৌজদারি মামলা না করার অঙ্গীকার ছিল। তবে নথিটির প্রকৃত ভাষা, স্বাক্ষরের পরিস্থিতি এবং মরদেহ হস্তান্তরের সঙ্গে এর কোনো শর্ত যুক্ত ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক স্কুল কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খান এবং অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফেরদৌস হাসান টিটোর মধ্যে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন বলে সরবরাহ করা বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের বক্তব্য এবং যোগাযোগের বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ: এটি প্রথম আলোর সংবাদধারার আদলে তৈরি একটি খসড়া, প্রথম আলোর প্রকাশিত সংবাদ নয়। অভিযোগগুলোর পক্ষে নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া যাচাই না করে সংবাদটি প্রকাশ করা উচিত হবে না
