শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

ভালুকায় রাতের আঁধারে পাকা ধান কেটে নেয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ একর জমির পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবার ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, উপজেলার ডাকাতিয়া মৌজার ৮৪৮৮ ও ৮৪৮৯ নম্বর দাগে প্রায় ৬ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে ভোগদখলে রয়েছেন শ্রী নিরাঞ্জন সরকার গংরা। তবে সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোররাতে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে প্রায় ৪ একর জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে জমির মালিক পক্ষ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা সরে যায়।

অভিযোগকারী শ্রী নিরাঞ্জন সরকার বলেন, “এই জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। আমরা বহু বছর ধরে ভোগদখলে আছি। প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে। প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনায় নিরাঞ্জন সরকার বাদী হয়ে শাহিন মিয়া, আলম মিয়া, আবু সাইদ, রাউজুদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, মো. রোস্তম আলী, কুদ্দুস মিয়া, আব্দুল মালেক ও সোরয়ার্দী ঠান্ডরসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তদের একজন শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এদিকে জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক অ্যাডভোকেট নিতাই চন্দ্র বর্মণ (মন্ডল) বলেন,“এটি একটি সুস্পষ্ট জমি দখলের অপচেষ্টা। আইনগতভাবে আমাদের জমির মালিকানা প্রমাণিত। এভাবে রাতের আঁধারে ফসল কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও অন্যায়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”

ভালুকা মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছে।

আরো