কুবিতে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ: আটক যুবককে পরিবারের জিম্মায় মুক্তি
কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ভুক্তভোগী মামলা করতে অনাগ্রহী হওয়ায় পরিবারের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান রাকিব (পিতা আবুল বাসার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশে মেয়েটির হাত ধরলে উত্তর মোড়ে মেয়েটটি একটি দোকানে অভিযুক্তকে নিয়ে যায়। দোকানে গিয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্বাসকে বিষয়টি জানান।
পরে রাকিব ওই দোকানের দ্বিতীয় তলায় উঠলে আব্বাসসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের অভিযোগে তাকে মারধর করেন। মারধর থেকে বাঁচতে একপর্যায়ে রাকিব দোকানের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দেন। এরপর তাকে কুবির শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।
প্রক্টর অফিসে নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দুইজন আনসার সদস্যের পাহারায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।
এদিকে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত রাকিব ২০২২ সাল থেকে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ক্যাম্পাসে এসে তার হাত ধরেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার ইতোমধ্যে জিডিও করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্বাস উদ্দীন বলেন, “সে (ভুক্তভোগী) আমার আপন ছোটবোন না হলেও তার বড় ভাই ও আপু আমাকে তার দেখাশোনা করতে বলেছিলেন। এজন্য আজ সে বিপদে পড়ে সবার আগে আমার দোকানে এসে রাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। কিছুক্ষণ পর রাকিবও তার পিছু পিছু আমার হোটেলের দ্বিতীয় তলায় চলে আসে।
আমি তাকে বিস্তারিত জানতে চাইলে সে উল্টো আমাকে প্রশ্ন করে ‘আমি তোমাকে কেন বলবো?’ এবং জানায়, সে সবকিছু প্রশাসনকে বলবে। আমি তার বাবা-মায়ের নাম্বার চাইইলে সে বলে ‘আমাকে আইনের হাতে তুলে দিন। আমি তাদেরকে সবকিছু বলবো’।একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির মধ্যে তাকে মারধর (অভিযুক্তের দাবি, তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়) করা হলে সে দোতলা থেকে লাফ দেয়। পরে আমরা তাকে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে না দিয়ে সরাসরি প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান রাকিব বলেন, “২০২২ সালের জুন বা জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। আমি জানতে পারি সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তাই দেখা করতে এসেছিলাম।” তবে তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
অভিযুক্তের মা দাবি করেন, তার ছেলের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের কারণেই তার ছেলের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “আজ বিকেল ৩টার দিকে আব্বাস নামের এক শিক্ষার্থী আমাকে ফোনে বিষয়টি জানায়। আমরা প্রথমে অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামলা করতে না চাইলে পরিবারের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
মোঃ ইহসানুল হক সাকিব
কুবি প্রতিনিধি