Thursday, 25 June, 2026, 9:47 pm

জন্মগত হৃদরোগীদের সহায়তায় আর্থিক অনুদান বিতরণ

আলী আহসান রবি

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয় এর রোগীকল্যাণ সমিতি কর্তৃক আয়োজিত জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সন্তান আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে ‘সকলের জন্য মানবিক বাংলাদেশ’ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এদেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ডাক্তারদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা এবং কৌশল এবং কিভাবে হৃদরোগ থেকে রোগীকে আর উন্নত চিকিৎসা দিয়ে রোগমুক্ত করা যায় সেই সুপারিশ মালাও আমরা জানতে চাই । এজন্য আপনারাই কৌশল, উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদেরকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে আমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। জনগণের কাছে দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। গত এক বছরে জটিল রোগীদের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ বাজেটে বিভিন্ন জটিল রোগীসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করার বাজেট ঘোষণায় আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পয়সার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে, পয়সার জন্য শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে এটা শহীদ জিয়ার আদর্শে আমরা জাতীয়তাবাদের দলের বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করে না। তিনি আরো বলেন, আমরা
প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করছি যাতে কেউ চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোনো রোগীকে চিকিৎসার অভাবে স্বাস্থ্য সেবা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাচ্ছে। হৃদরোগ চিকিৎসাকে আধুনিক ও সুলভ করার পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি হৃদরোগ বিষয়ে আরও বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন , হৃদরোগ বাংলাদেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও সংশ্লিষ্ট কারণে মারা যান। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সুসজ্জিত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত গাইড করছেন, এ দেশের অবহেলিত প্রতিটি মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেজন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। রোগীদের সাথে সকল অভিভাবক যারা আছেন তাদের সাথে আমরাও একাত্ত হয়ে কাজ করছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। গ্রামে-গঞ্জে স্বাস্থ্য শিক্ষা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যাম্প, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দরিদ্র ও প্রান্তিক হৃদরোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ একীভূত করা হয়েছে।
মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক রোগীকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে এবং সারাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে।
পরে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ১০০শত জন জন্মগত হৃদরোগীদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এর পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো