Saturday, 4 July, 2026, 1:07 am

৮৮ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ড

৮৮ বছর ধরে বিশ্বকাপের নকআউটে জয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল সুইজারল্যান্ড। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই আক্ষেপ বয়ে বেড়িয়েছে। অবশেষে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুধু শেষ ষোলোয় জায়গাই নিশ্চিত করেনি সুইসরা, লিখেছে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের ১০ মিনিটেই তাদের এগিয়ে দেন স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো। মাঝমাঠে দারুণ এক বল কাড়ার পর দ্রুতগতির আক্রমণে জোহান মানজাম্বির নিখুঁত পাস পেয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান এমবোলো। গোলের পেছনে মানজাম্বির বুদ্ধিদীপ্ত দৌড় ও পাস ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

গোল হজমের পর আলজেরিয়া বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লারের নিয়ন্ত্রিত মিডফিল্ড বারবার প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেয়। অন্যদিকে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের সামনে উল্লেখযোগ্য সুযোগই তৈরি করতে পারেনি উত্তর আফ্রিকার দলটি।

বিরতি থেকে ফিরেই দ্বিতীয় ধাক্কা খায় আলজেরিয়া। ৪৬ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্যান এনডয়ে। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন মানজাম্বির পাশাপাশি এনডয়েও।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। মাঠে নামেন আমিন গুইরি, আনিস হাজ মুসা ও হিশাম বুদাউই। তবে সুইসদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে তাদের আক্রমণ ধারাবাহিকতা খুঁজে পায়নি। ম্যাচজুড়ে বলের দখলে এগিয়ে থেকেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে বিদায় নিতে হয় আলজেরিয়াকে।

শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডও কয়েকটি পরিবর্তন আনে। এমবোলো, মানজাম্বি ও এনডয়েকে তুলে বিশ্রাম দেন কোচ মুরাত ইয়াকিন। তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল। আলজেরিয়া শেষ মুহূর্তে ব্যবধান কমানোর মতো কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ৮৮ বছরের জয়খরা কাটাল সুইজারল্যান্ড। ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার নকআউট ম্যাচ জিতে তারা আবারও শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল। পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা ঘানা।

আরো