Monday, 13 July, 2026, 4:02 pm

ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

বিমান টিকিটের নামে কয়েক শত গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের (এফইবিডি) বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (সিইও) সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন, ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট। পরে হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা চালু করে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট ও এফইবিডি উভয় নামে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করত। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক অংশীদার (বি-টু-বি) এবং সাধারণ গ্রাহক (বি-টু-সি) উভয় পর্যায়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই টিকিট সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এফইবিডির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরবর্তীতে ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিআইডির মুখপাত্র বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টিকিটের পুরো মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত সিআইডি করছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরো