শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ

সাউদার্নে প্রশাসক উপেক্ষা, চলছে নিজস্ব প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বেসরকারি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে সরকার নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসককে কার্যত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতের রায় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অবস্থান অগ্রাহ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ড নিজেদের সিদ্ধান্তে প্রশাসন পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২৫ মে সরকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফারুককে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ নিয়োগের বিরুদ্ধে রিট হলেও পরে আপিল বিভাগ প্রশাসক নিয়োগকে বৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের তিন সদস্যকে অযোগ্য এবং অন্য সদস্যদের নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যবেক্ষণ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশনার পরও প্রশাসককে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এক বছরে তিনি মাত্র দুই দিন অফিস করতে পেরেছেন। আর্থিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না, এমনকি বিভিন্ন নোটিশের অনুলিপিও দেওয়া হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মোজাম্মেল হককে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অপসারণ করা হয়। পরে ট্রেজারার ড. শরীফ আশরাফুজ্জামানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এ নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

এদিকে ইউজিসির তদন্তে ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সনদ জালিয়াতি, তহবিল আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাও করেছে। তবুও একই ট্রাস্টি বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান সময়ে ইস্যু করা ডিগ্রি ও সনদের বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীর।

সরকার নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফারুক বলেন, দায়িত্ব পালন করতে চাইলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জানিয়েছে, অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো