মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ

যাচাইয়ের চেয়ে এআইয়ের ওপর অন্ধ আস্থা বাড়ছে, সতর্ক করল ক্যাসপারস্কি

এআই এজেন্টের দ্রুত বিকাশ এবং কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা নতুন ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। ব্যবহারকারীদের বৈধ এআই টুলের ওপর আস্থাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা এসব টুলের ক্ষতিকর সংস্করণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ২০২৬ সালে ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম (জিআরইএটি) এআই সেবার ছদ্মবেশে পরিচালিত ৯২ হাজার ক্ষতিকর হামলা শনাক্ত করেছে। এসব হামলায় চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির ভুয়া সংস্করণের পাশাপাশি এজেন্টিক এআই সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে ১৫ হাজারের বেশি ম্যালওয়্যার নমুনাও শনাক্ত হয়েছে।

ক্যাসপারস্কির জিআরইএটি-এর নিরাপত্তা গবেষক সোজুন রিউ বলেন, “গত কয়েক বছরে এআই অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হয়েছে। শুরুতে এআই এমন সব টুল হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা কনটেন্ট তৈরি, সারসংক্ষেপ এবং খসড়া তৈরির মতো কাজে সহায়তা করত। এরপর কো-পাইলটের মাধ্যমে কাজের বিভিন্ন ধাপে এআই সরাসরি যুক্ত হয় এবং ব্যবহারকারীকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি কাজ এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে থাকে। আর এখন আমরা এমন এআই এজেন্টের যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে এআই নিজে পরিকল্পনা করতে, বিভিন্ন টুল ব্যবহার করতে, এপিআই কল করতে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এআই-নির্ভর কাজের প্রতিটি ধাপ যাচাই করার ক্ষেত্রে মানুষ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গিয়ে এই যাচাই অনেক সময় উপেক্ষিত হচ্ছে। আর যখন গতি যাচাইয়ের চেয়ে এগিয়ে যায়, তখন সেই গতিই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।”

রিউ, এআইয়ের পাশাপাশি ওপেন-সোর্স সফটওয়্যারের সাপ্লাই চেইন হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার মতে, সাইবার অপরাধীরা বিশ্বস্ত সফটওয়্যার কম্পোনেন্টে হামলা চালিয়ে সহজেই কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি অবকাঠামোয় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে এক্সিওস-এর ওপর হামলার ঘটনাটি দেখিয়েছে, কীভাবে একটি আক্রান্ত সফটওয়্যার প্যাকেজ দ্রুত পুরো সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনে ক্ষতিকর কোড ছড়িয়ে দিতে পারে।

রিউ আরও বলেন, “বাস্তবতা হলো, ডেভেলপারদের ওপেন সোর্স প্রয়োজন। এআইয়েরও ওপেন সোর্স প্রয়োজন। আর হামলাকারীরাও বিষয়টি খুব ভালোভাবে বোঝে। এ কারণেই ওপেন-সোর্স প্যাকেজকে লক্ষ্য করে সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইন হামলা এখনো অন্যতম বড় হুমকি। বিশেষ করে এনপিএম ও পিওয়াইপিআই-এর মতো একাধিক ওপেন-সোর্স ইকোসিস্টেমে একের পর এক বড় ধরনের হামলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আমরা অন্তত ১০টি বড় আকারের হামলা অভিযান দেখেছি এবং এর গতি ক্রমেই বাড়ছে। এক্সিওস-এর মতো বহুল ব্যবহৃত প্যাকেজে হামলা থেকে শুরু করে সাই-হুলুড-এর মতো নিজে থেকেই ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম ওয়ার্ম এসব ঘটনা ওপেন-সোর্স ইকোসিস্টেমের ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গত বছর আমাদের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠান সাপ্লাই চেইন হামলার শিকার হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার কতটা গভীরভাবে যুক্ত। তাই ভবিষ্যতেও ওপেন-সোর্স ইকোসিস্টেম সাইবার অপরাধীদের বড় লক্ষ্য হয়ে থাকবে। কারণ এর মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রযুক্তি অবকাঠামোয় প্রবেশের সুযোগ পায়।”

এই ধরনের ঝুঁকি কমাতে ক্যাসপারস্কি নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট, শক্তিশালী আইডিই, এআই এজেন্টের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, সফটওয়্যার প্রবেশের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা এবং অব্যাহত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। ক্যাসপারস্কির গবেষকেরা একই সঙ্গে সিআই/সিডি পরিবেশে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সম্ভাব্য ভুল কনফিগারেশন শনাক্ত করেছেন।

রিউ এর মতে, “একজন নিরাপত্তা গবেষক হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধু সফটওয়্যার তৈরি হওয়ার পর সেটিকে সুরক্ষিত করার পরিবর্তে সফটওয়্যার তৈরির পরিবেশকেও নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের আরও প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কোনো কিছু ব্যবহারের আগে তার ওপর আস্থা যাচাই করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধীর নয়, বরং আরও দ্রুত কাজ করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিরাপত্তা তখনই দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন আমরা সুরক্ষা ও দৃশ্যমানতার চেয়ে গতি, অর্থ এবং দ্রুত সরবরাহকে বেশি গুরুত্ব দিই।”

আরো