Wednesday, 24 June, 2026, 5:36 pm

ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে মাদ্রাসা খাতে নতুন ৭৩ ট্রেইনার

বি‌ডি মেইল ডেস্ক

ব্রিটিশ কাউন্সিল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড মাদ্রাসা এডুকেশন ডিভিশন (TMED) এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা টিচার্স’ ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (BMTTI)-এর সহযোগিতায় ছয় দিনব্যাপী আবাসিক Training of Trainers (ToT) কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের নয়জন শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি ভাষা শিক্ষাবিদের পরিচালনায় ২৮টি সেশনের এই প্রশিক্ষণে মোট ৭৩ জন মাদ্রাসা টিচার এডুকেটর অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে ট্রেনার সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে ৭৩-এ উন্নীত হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে ট্রেনার সক্ষমতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরে বাংলাদেশ মাদ্রাসা টিচার্স’ ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে (BMTTI)।

এই আবাসিক প্রশিক্ষণটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও TMED-এর মধ্যে বৃহত্তর অংশীদারিত্ব কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য মাদ্রাসা শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নকে কাঠামোবদ্ধ ও টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া।

আবাসিক প্রশিক্ষণের আগে অংশগ্রহণকারীরা সিটি অ্যান্ড গিল্ডস, যুক্তরাজ্য অনুমোদিত ১২-সপ্তাহব্যাপী অনলাইন কোর্স Learning Pathway to Assured Certificate in Teacher Education (LPACTE) সম্পন্ন করেন। পরে তারা ছয় মাসের Community of Practice (CoP) প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থেকে প্রতিফলন, অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করেন। সদ্য সমাপ্ত ToT কর্মসূচিতে তারা নতুনভাবে উন্নয়ন করা ব্রিটিশ কাউন্সিল সমর্থিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ মডিউলের বাস্তব প্রয়োগ ও ডেলিভারি দক্ষতা অর্জন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রহমান BMTTI কর্মকর্তাদের হাতে নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন,
“BMTTI একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল—মাত্র কয়েকজন ফ্যাকাল্টি নিয়ে কীভাবে সারা দেশের এক লাখের বেশি শিক্ষকের জন্য উচ্চমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব? এর উত্তর হলো ট্রেনার ক্যাডার তৈরি করা ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আজ আমরা সেই অগ্রগতির বাস্তব প্রতিফলন দেখছি—৭৩ জন দক্ষ টিচার এডুকেটর এখন সারা দেশে এই প্রশিক্ষণের প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত।”

টিএমইডি সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই সহযোগিতা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিএমটিটিআই-এর মাস্টার ট্রেইনাররা দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”

বিএমটিটিআই-এর প্রিন্সিপাল প্রফেসর মাহমুদুল হক বলেন,
“এই অংশীদারিত্ব আমাদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ সক্ষমতায় একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।”

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি সেফগার্ডিং ম্যানেজার আকলিমা আক্তার সেফগার্ডিং বিষয়ের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংলিশ অ্যান্ড স্কুল এডুকেশন টিম লিড শমরেশ সাহা বলেন,
“বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাতিস্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই প্রকল্পটি সরকারি খাত ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সফল সহযোগিতার একটি উদাহরণ। আমরা ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন যাত্রাকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমটিটিআই-এর ভাইস প্রিন্সিপাল মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. নূরুল্লাহ, মোহাম্মদ সোহেল রানা (এডিসি-শিক্ষা), ড. ফারজানা, গোলাম কুদ্দুসসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ফ্যাকাল্টি সদস্যরা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ইংলিশ প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাহেলি জামিলা নাজ প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আরো