শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সংস্কৃতি মন্ত্রী’র সাথে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আলী আহসান রবি

বাংলাদেশ সচিবালয়ের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি-এর দপ্তরে তাঁর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মহামান্য মার্সেলো কার্লোস সেসা (H.E. Mr. Marcelo Carlos Cesa) এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। উক্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন জনাব প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও (Mr. Patricio Urueña Palacio), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক মিস কাজী আনারকলী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার মানুষ মূলত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই সবচেয়ে বেশি চিনি। তবে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য গুণী লেখকদের সম্পর্কেও বিশদ জানতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক অন্যান্য লেখকদের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ জানান। একই সাথে তিনি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ‘বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলা’-এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট লালন শাহ-এর গানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং লালন গীতি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আর্জেন্টিনা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই যে অনন্য সমর্থন দিয়েছিল এবং ১৯৭২ সালে অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে যে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল, তা বাংলাদেশের জনগণ চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। বর্তমান নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (Bangladesh First) নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার সাথে সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করতে বদ্ধপরিকর। দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চুক্তি নেই। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে যে ‘সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি’ (Agreement of Cultural Cooperation)-এর খসড়া পাঠানো হয়েছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আমাদের বাউল ও লোকঐতিহ্যের সাথে আর্জেন্টিনার ট্যাঙ্গো ও চ্যামামে নৃত্যের মেলবন্ধন ঘটবে। মন্ত্রী যোগ করেন, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গ বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আমাদের আরও বিস্তৃত করতে হবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বন্ধনকে এক অনন্য ও স্থায়ী রূপ দিতে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ‘বাংলাদেশের নামে একটি সড়ক’ (Road) নামকরণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। একই সাথে, দুই দেশের জলবায়ু ও আবহাওয়ার চমৎকার সামঞ্জস্যের বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশের কিছু ঐতিহ্যবাহী দেশীয় উদ্ভিদ (Native Plants) আর্জেন্টিনায় রোপণ ও স্থানান্তরের পরিবেশবান্ধব প্রস্তাবও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
দুই দেশের জনগণের সংযোগ (People-to-People Connection) আরও জোরদার করার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্লগারকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ব্লগার দল বাংলাদেশে অবস্থান করে এখানকার আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোটি ভক্তদের উন্মادনা, ভালোবাসা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ ভ্লগ (Vlog) তৈরি করবেন, যা আর্জেন্টিনায় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।
বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি জাঁকজমকপূর্ণ যৌথ ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ (Cultural Evening) আয়োজনের প্রস্তাব পেশ করেন।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহকে সাধুবাদ জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আরো