শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ

কর নয়, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো স্থায়ী নিষিদ্ধের দাবি

বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের উদ্যোগে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য (ই-সিগারেট, ভেপ, এন্ডসসহ) স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সংস্কৃতিকর্মী, নাট্যকর্মী, শিক্ষক, জনস্বাস্থ্যকর্মী এবং তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে সরকার কার্যত এসব পণ্যকে আইনগত বৈধতা দিয়েছে। এতে দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই কর আরোপের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার পরিবর্তে এসব পণ্য সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন অধ্যাদেশে সব ধরনের ‘ইমার্জিং টোব্যাকো’ পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিতরণ নিষিদ্ধের বিধান রাখলেও নির্বাচিত সরকার তা বাদ দিয়েছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যের বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
তাদের মতে, রাজস্ব আয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কর আরোপের মাধ্যমে এসব পণ্য বৈধতা পেলে কোটি কোটি কিশোর-তরুণ নতুন ধরনের নেশায় আসক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বক্তারা আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) আসক্তি সৃষ্টিকারী ও ক্ষতিকর। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৭টি দেশ ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় কর আরোপের মাধ্যমে এসব পণ্যকে বৈধতা দেওয়া নীতিগতভাবে অসঙ্গত বলে তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, দেশে ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী। গত পাঁচ বছরে দেশে ই-সিগারেট বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উদ্বেগজনক।
কর্মসূচি থেকে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের স্বার্থে বাজেট প্রস্তাব সংশোধন করে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যকে করের আওতায় না আনা এবং এসব পণ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

আরো