গ্রাম্য চৌকিদার থেকে ‘ভুয়া ডিগ্রি’: প্রতারণার ভয়ংকর চিত্র (পর্ব ২)
গ্রাম্য চৌকিদার থেকে অস্ট্রেলিয়ার নামকরা মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ডিগ্রি অর্জনের গল্প—এই প্রতারণার বিষয়টি ইতোমধ্যেই পাঠক সমাজ অবগত। তবে আজ আমরা এই প্রতারক দেলোয়ারের আরও কিছু অভিনব ও ভয়ংকর প্রতারণার কৌশল তুলে ধরছি, যা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো দেশের অপটোমেট্রি পেশার জন্য মারাত্মক হুমকি।
আমাদের পত্রিকার পক্ষ থেকে তার প্রচারিত ডিগ্রির পক্ষে প্রামাণ্য নথি উপস্থাপনের জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, এমনকি একাধিকবার কল দিয়েও তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রতারকদের সাহস আরও বেড়ে যাচ্ছে—এটাই বাস্তবতা।
এই প্রতারকের অভিনব প্রতারণার আরও একটি ভয়াবহ দিক আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন Institute of Community Ophthalmology-এর এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, একবার আয়োজিত একটি সেমিনারে ওই ব্যক্তি ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে এমন অপ্রাসঙ্গিক ও অদ্ভুত ভাষা ব্যবহার করেন যে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বিব্রত ও লজ্জিত হন। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আর কখনো তার সঙ্গে কোনো যৌথ সেমিনার আয়োজন করেনি।
সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রেও তার প্রতারণা ছিল ব্যতিক্রমী। প্রশ্ন থেকেই যায়—মাত্র অষ্টম শ্রেণি পাস একজন ব্যক্তি কীভাবে এত কৌশলী প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারেন?
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি LinkedIn ও Facebook থেকে দেশের স্বনামধন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ (Ophthalmologist) ও অপটোমেট্রিস্টদের প্রোফাইল সংগ্রহ করেন। এরপর তাদের বন্ধু তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ChatGPT ও অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠান। সেই ই-মেইলগুলোতে তিনি নিজেকে বাংলাদেশের অপটোমেট্রি পেশার “নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি” হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন যে তার একটি “কমিউনিটি অপটোমেট্রি অ্যাসোসিয়েশন” রয়েছে, যা নাকি একমাত্র সরকার-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান—যার বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।
এছাড়াও তার নামে খোলা একাধিক ফেসবুক পেজ ও চ্যানেলকে “রেজিস্ট্রেশনকৃত” বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে সেগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণার অংশ—একটি সুপরিকল্পিত ডিজিটাল ফাঁদ।
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক প্রকৃত অপটোমেট্রিস্টই এই প্রতারণা সম্পর্কে জানলেও সামাজিক মর্যাদা ও মানসম্মানের কথা ভেবে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এই নীরবতাই প্রতারকদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
প্রশ্ন একটাই—কবে এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
আর কতদিন দেশের স্বাস্থ্যখাত ও অপটোমেট্রি পেশা এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?