সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ

নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি ও পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বি‌ডি মেইল ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ এক নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং বিনিয়োগ আস্থার টানাপোড়েন—এই বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এখন সময়ের দাবি। এমন বাস্তবতায় রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি ও পুঁজিবাজার ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে – এ অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে গভীর ও বিশদ আলোচনা হয়।

*রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত*
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য *আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী* । তিনি বলেন,
নির্বাচনের পর দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। পুঁজিবাজার শক্তিশালী না হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না।
তিনি আরও বলেন, বাজারভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পুঁজিবাজার ও নীতিনির্ধারণ: কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
*ড. এম এ রাজ্জাক,* অর্থনীতিবিদ ও চেয়ারম্যান, (আরএপিআইডি)
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক (কমিশনার), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)
*মাসরুর আরেফিন* , চেয়ারম্যান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি ব্যাংকআলোচকরা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুঁজিবাজারে কাঠামোগত দুর্বলতা, আস্থার ঘাটতি এবং নীতিগত অস্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা, সুশাসন ও করপোরেট গভর্ন্যান্স জোরদার করা গেলে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অর্থনীতির বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ দিগন্ত
সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যে উঠে আসে—
বৈশ্বিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছেব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকট বিনিয়োগ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছেতবে একই সঙ্গে আলোচকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যথাযথ নীতিগত সংস্কার, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং বাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে ২০২৬ সাল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সূচনাবিন্দু হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও বাজারের বার্তা
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা অংশ নেন। তাঁদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে— বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাপুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিনীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনা এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পুঁজিবাজার আবারও দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
আয়োজকদের বক্তব্য ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইয়ূব রহমান এবং পরিচালক*সাইফুল ইসলাম* বলেন,এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, নীতিনির্ধারক ও বাজার অংশীজনদের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।

*সবমিলিয়ে*
*নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি ও পুঁজিবাজার*
শীর্ষক এই সম্মেলন নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কাঠামোগত সংস্কার এবং নীতিগত স্বচ্ছতা—এই তিন স্তম্ভের ওপরই নির্ভর করবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার কোন পথে এগিয়ে যাবে।

আরো