রাত পোহালেই ভোট: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান আজ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সামনে জাতীয় নির্বাচন। রাত পেরোলেই সারা দেশে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। বহু বছর পর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন ভোটাররা—এমন প্রত্যাশা ও উৎসাহে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ আসনে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। সারাদেশে প্রস্তুত রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মাঠে রয়েছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রযুক্তি ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—বহু কেন্দ্রে সিসিটিভি, ড্রোন ও বডি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা এক হাজার ৯৭৬ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র রয়েছেন ২৪৯ জন। প্রতি আসনে গড়ে ছয়জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
মোট ভোটার ১২ কোটির বেশি। এর মধ্যে তরুণ ভোটার প্রায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ, যা মোট ভোটারের উল্লেখযোগ্য অংশ। বিশ্লেষকদের ধারণা, তরুণদের ভোটই এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েকটি নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক ও প্রশ্ন থাকায় এবারের ভোটকে ঘিরে দেশ-বিদেশে বিশেষ নজর রয়েছে। ১৯টি দেশ থেকে শত শত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষকরাও মাঠে থাকবেন।
এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী, কারাবন্দি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যাশা—ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। এখন শুধু অপেক্ষা নতুন সূর্যোদয়ের, যে সূর্যের সঙ্গে শুরু হবে ভোটের