উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
আলী আহসান রবি
বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের প্রথম বিট সুগার মিল কৃষিভিত্তিক শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
আজ শনিবার (৯ মে) বিকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ বিলাসী চর তিস্তাপাড়ায় দেশের প্রথম বিট সুগার মিল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি শুধু কোনো তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বাস্তবে সফলভাবে প্রয়োগ করা একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। গুড় উৎপাদন থেকে শুরু করে আধুনিক চিনি উৎপাদনের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি মডেল।”
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সনদ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সেবা অনলাইনে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে নিকটবর্তী এলাকায় শাখা অফিস স্থাপনের বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।
কার্গো পরিবহন ও রপ্তানি ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে পণ্য পাঠানোর বিষয়ে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, বিট সুগার উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হবে এবং উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন হলে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
উদ্যোক্তা মো. আব্দুস সালাম জানান , ভূমির উচ্চতা এবং শীতের দীর্ঘতার কারণে রংপুর বিভাগ সুগার বিট চাষের সবচেয়ে উপযোগী। ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সুগার বিট চাষ শুরু করে সার্বিকভাবে ভালো ফলও পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে বিট সুগার মিল হতে চিনি উৎপাদন শুরু হবে। এ কারখানা হতে বছরে ৪৫০০০ টন চিনি, ৪৮ লাখ সিবিএম গ্যাস, ৪৫০০০ টন জৈব সার এবং ৩০০০০ টন পশুখাদ্য উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি ইপিবির সনদ প্রাপ্তি, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাণিজ্য চুক্তি ও উত্তরবঙ্গ হতে বিমানের কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান ও পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া বেগম বক্তব্য রাখেন। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।