কুবিতে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
কুবি প্রতিনিধি
বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আদিবাসী ছাত্র সংসদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও আদিবাসী ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি সুইচিংনু মার্মা।
ফার্মেসি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেমি চাকমার সঞ্চালনায় ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিশ্ব আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা দলীয় গান পরিবেশন করেন।
আলোচনা পর্বে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা, শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থান, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে শিক্ষার্থীরা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে আদিবাসী ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মংক্যএ মার্মা বলেন, “আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আশা করি, আজকের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।”
সমাপনী বক্তব্যে আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি উচিং মারমা বলেন, “আজকের আয়োজন সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা সামনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ারবিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজন করতে চাই। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রকাশনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী বছর আজকের দিনে আরও বড় পরিসরে মুক্তমঞ্চে আদিবাসী দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে একটি ট্যুর আয়োজন এবং জুনিয়রদের উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিষয়ক একটি সেমিনার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।”