শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

ইউক্রেন যুদ্ধের খেসারত হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করতে কংগ্রেসের পাস করা বহুল আলোচিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে দ্বিপক্ষীয় সমর্থন পাওয়ার পর বিলটি ট্রাম্পের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই খবর নিশ্চিত করা হয়। খবর আলজাজিরার।

ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিলটির খসড়া তৈরি ও মধ্যস্থতায় নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এটির নাম রাখা হয়েছে।

আইন পাসের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেসকে ধন্যবাদ জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

নতুন এই আইনের অধীনে সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও পুতিন ঘনিষ্ঠ ধনকুবেরদের (অলিগার্ক) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ, প্রতিরক্ষা খাত এবং তেল পরিবহণে ব্যবহৃত অবৈধ ‘শ্যাডো ফ্রিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে ইরানি অস্ত্র ও জ্বালানি খাতের ওপর চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইনটিতে ট্রাম্পকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী শীর্ষ পাঁচটি দেশের (যার মধ্যে চীন ও ভারত অন্যতম) ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করতে পারবেন তিনি। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনের আয়ের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করে যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় বাধ্য করা।

গত আগস্টে ৮৬-১১ ভোটে মার্কিন সেনেট এবং গত বুধবার ২৬২-১৫৯ ভোটে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়ার পর বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখল। বিগত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউক্রেন সংঘাত ও রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে গৃহীত এটিই সবচেয়ে বড় ও কঠোর আইনি উদ্যোগ।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন একে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা শুল্ক আরোপের একক ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে অর্পণ করার বিরোধিতা করে আইনটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ভারত আগেই জানিয়েছে তাদের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

হোয়াইট হাউসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের আগামী সপ্তাহের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প।

আরো